প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির মহাকাব্যে ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং ২০২৬-এর নির্বাচনী ডামাডোল—প্রতিটি অধ্যায়ই নতুন নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে। ১৯০৫ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার রাজপথে নেমেছে অধিকারের প্রয়োজনে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন তুঙ্গে উঠেছে প্রধান দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা। একদিকে যখন তারেক রহমান 'ধানের শীষের' পক্ষে ভোট কেন্দ্র পাহারার ডাক দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিএনপি ঘোষণা করেছে ক্ষমতায় গেলে সবার জন্য 'ফ্রি ইন্টারনেট' ও 'পেপাল' সুবিধার এক অভাবনীয় ডিজিটাল রোডম্যাপ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত সংস্কার ও অধিকার আদায়ের লড়াই। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পথ ধরে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এ দেশকে সার্বভৌমত্ব এনে দেয়। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের ঢেউ। ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে অর্জিত হয় এক নতুন বাংলাদেশ। সেই বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দীর্ঘ দেড় দশক পর ব্যালটে নেই আওয়ামী লীগের 'নৌকা' প্রতীক, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এক বৈপ্লবিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মানুষের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
মাহদী আমিন বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি। ফ্রিল্যান্সারদের বহুদিনের দাবি অনুযায়ী দেশে 'পেপাল' আনার কাজ এরই মধ্যে শুরু করেছে বিএনপি।" তিনি আরও জানান, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিএনপি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে, যার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন স্বয়ং চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে বগুড়ায় অবস্থানকালে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে হবে। এদিকে, বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি মূলত তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আকৃষ্ট করতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাইমা রহমানের উপস্থিতি বিএনপির জন্য 'জেন-জি' ভোটারদের জয় করার এক বড় ট্রাম্প কার্ড।
নির্বাচনী ময়দানের আরেক বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লার সমাবেশে ঘোষণা করেছেন, বিজয়ী হলে তারা পরাজিতদের নিয়েও 'ঐক্যের সরকার' গঠন করবেন। তবে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা থামছে না; পটুয়াখালী-০৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে কমিশন।
আল-জাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে ভোটারদের একাংশ দোটানায় থাকলেও আইসিটি খাতে বিএনপির এই নতুন পরিকল্পনা তরুণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ১৯০০ সালে যে লড়াই শুরু হয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে, ২০২৬ সালে এসে তা রূপান্তরিত হয়েছে একটি সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তি নির্ভর 'স্মার্ট' বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং আগামী এক শতাব্দীর ডিজিটাল ভাগ্য নির্ধারণের এক বিশাল মঞ্চ।
সূত্র: মাহদী আমিনের বিশেষ ভাষণ (৩১ জানুয়ারি ২০২৬), তারেক রহমানের বগুড়া সফরের বক্তব্য, ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার, মাহফুজ আলমের বিশেষ সাক্ষাৎকার, নির্বাচন কমিশনের শোকজ নোটিশ এবং জাতীয় আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের মানুষ সবসময় আধুনিকতা ও স্বাধীনতার পক্ষে। মাহদী আমিনের 'ফ্রি ইন্টারনেট' এবং '১০ লাখ কর্মসংস্থান'-এর প্রতিশ্রুতি মূলত নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান ও গ্লোবাল মার্কেটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করার একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। তারেক রহমানের নেতৃত্বের এই নতুন রূপরেখা ২০২৬-এর নির্বাচনে গেম-চেঞ্জার হতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |